একজন ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ারের পক্ষে ফিনান্সিয়াল সেলস কতটা লাভজনক?

ফিনান্সিয়াল সেলসে কেরিয়ার

প্রতিটি কোম্পানী এখন ম্যানেজমেন্ট লেভেলের সাথে টেকনিক্যাল স্কিল  চাইছে।

তাই আজকাল অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর এম.বি.এ করার সিদ্ধান্ত নেন।


আপনাদের মধ্যে যারা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর ফিন্যান্স এডভাইসর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চাইছেন তাদের জন্যই আজকে আমাদের এই আর্টিক্যালটি।

আজকের বিষয়


1. ফিনান্সিয়াল এডভাইসর কী?
2. ফিনান্সিয়াল এডভাইসরদের ভবিষ্যৎ
3.  এই ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ভাবে উপার্জনের পন্থা
4. এই চাকরীর জন্য কোন কোন স্কিল থাকা বাঞ্চনীয়
5. এই ক্যারিয়ারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা
6. সর্বোশেষ কিভাবে ও কোথা থেকে শুরু করবেন

1. ফিনান্সিয়াল এডভাইসর কী?

ফিনান্সিয়াল এডভাইসর হলো এমন একটি প্রফেশন যাদের কাজ আপনার ভবিষ্যৎ চাওয়া পাওয়া কে মাথায় রেখে আপনার বর্তমান সময়ের আয় ব্যয় কে সঠিক ভাবে পরিচালনা করা।


এই কাজটি আমাদের অনেকের কাছেই অজানা।


কোনো কোম্পানী গড়ে উঠতে গেলে যে সমস্ত আর্থিক দিক গুলি মাথায় রাখতে হয় সেগুলি যাদের পরামর্শ ছাড়া করা অসম্ভব তাদেরকেই ফিন্যান্সিয়াল এডভাইসর বলে।


এঁদের কাজ হলো ক্লায়েন্টের আয় ব্যয়কে মাথায় রেখে তার সঠিক ভবিষ্যতের পথ কে মসৃন করা।

ধরুন আপনি আপনার ছেলে মেয়েকে ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠাতে চান। অথবা পরবর্তীতে কোনো ছোট খাটো ব্যবসার চিন্তা করছেন। কিভাবে এখন থেকে সাশ্রয় করলে ভবিষ্যতে আপনার চাহিদা পূরণ হতে পারে তারই পরামর্শ দেন একজন ফিনান্সিয়াল এডভাইসর।

2. ফিনান্সিয়াল এডভাইসরদের ভবিষ্যৎ

সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, U.S Bureau of Labor Statistics অনুমান করছে 2010 থেকে 2020 এর মধ্যে ফিনান্সিয়াল এডভাইসর দের কদর প্রায় 32% বৃদ্ধি হতে চলেছে। যেখানে এই সেক্টরে জব হবে 206,800 থেকে 273,200 এর মতো এবং 2010 এ তাদের বার্ষিক গড় স্যালারি ছিল প্রায়  $64,750  মতো।

U.S Bureau of Labor Statistics ফিনান্সিয়াল এডভাইসরদের ভবিষ্যৎ
উৎস

এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে আগত সময়ে এই ক্ষেত্রটি কেরিয়ারে পক্ষে খুবই লাভজনক প্রমাণিত হবে। সুতরাং যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফিন্যান্স লাইনে আসতে চাইছেন তাদের পক্ষে খুবই সুখবর।

3.  এই ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ভাবে উপার্জনের পন্থা

এখানে মোট 4টি উপায়ে আয় করা সম্ভব।


3.1. কমিশন বেসড –

এখানে আপনি একজন ব্রোকার হিসেবে একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের বিক্রির নির্ধারিত কমিশনের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

3.2. ফি অনলি –

এতে ঘন্টা বা সেশন হিসেবে একটি টাকা ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির থেকে আপনাকে দেওয়া হবে।

3.3. ফি বেসড-

ওপরের দুটিকে একত্রিত করেও আপনি আপনার পারিশ্রমিক নিতে পারেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ফি ও কমিশন উভয়ই আপনার প্রাপ্য।

3.4. স্যালারি –

বড় বড় কোম্পানী তাদের এডভাইসরদের মাসিক বেতনে নিয়োগ করে থাকে। এক্ষেত্রে আপনি ওই কোম্পানীর একজন কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত থাকবেন এবং স্যালারির সাথে সাথে বোনাস, রিওয়ার্ড ইত্যাদি বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

4. এই চাকরীর জন্য কোন কোন স্কিল থাকা বাঞ্চনীয়

সব চাকরীর মতোই এই জবেও কিছু বাধ্যতামূলক স্কীলের ওপর বিশেষ দক্ষতা থাকা খুবই  প্রয়োজন। 

ফিনান্সিয়াল সেলস স্কিল
উৎস

এই জবে আপনার সেলস সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।  হতে পারে যে কোম্পানির হয়ে আপনি কাজটি করছেন তাদের নির্দির্ষ্ট কোন প্রোডাক্ট যেমন ইন্স্যুরেন্স, ইনভেষ্টমেন্ট প্রোডাক্ট ইত্যাদি বিক্রি করতে হবে।  সেক্ষত্রে সেলসের জ্ঞান থাকা বিশেষভাবে বাঞ্চনীয়।  


সেলস সম্পর্কে বিশদে জানতে এই আর্টিক্যালটি পড়ুন 

 



কোন কোন বিষয় আপনাকে সেলসে সাহায্য করতে পারে। 

মনে রাখবেন এই জবে আপনার ক্লায়েন্টরাই আপনাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।  তাই শুরুর দিন থেকে সুদৃঢ় ক্লায়েন্ট বেস (client base) তৈরী করার পাশাপাশি তাদের সাথে সুসম্পর্কও বজায় রাখতে হবে। 


এছাড়াও ফিনান্সিয়াল সেলসে প্রতি বছর কিছু বাধ্যতামূলক কোর্স করতে হয়।  সেক্ষত্রে নিজেকে আপ টু ডেট রাখা খুবই অব্যসিক। 


   5. এই ক্যারিয়ারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা 


  সুবিধা 

  • এই জবে উপার্জনের কোনো সীমা নেই। আপনি বেতন বা কমিশন যেই শর্তে কাজ করুন না কেন পুরোটাই নির্ভর করবে আপনার  ক্লায়েন্ট ও প্রডাক্টির ওপর ( যদি কোনো কোম্পানির হয়ে কাজ করেন তবে সেক্ষেত্রে সেই কোম্পানির চুক্তি অনুযায়ী )।  
  • আপনার ক্লায়েন্ট বেস (client base) ভালো ভাবে তৈরি হয়ে গেলে কাজের সময় ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।  তখন আপনি চাইলেই নিজের সুবিধা মতো কাজটি করতে পারবেন। 

অসুবিধা 

  • এটি স্বীকার করতেই হবে, এই ক্যারিয়ারে শুরুর দিকে খুবই চাপের সম্মুখীন হতে হয়। 
  • প্রতি নিয়ত নতুন ক্লায়েন্টের সন্ধান করতে হবে – শুরুর দিকে যখন আপনি সবে মাত্র এই লাইনটিতে প্রবেশ করেছেন , কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী মাসে আপনাকে একটি নির্দিষ্ঠ সংখ্যক ক্লয়েন্ট যোগাড় করতে হতে পারে।  তাই অনবরত নতুন ক্লায়েন্টের সন্ধান চালিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না সেই ক্লায়েন্ট আপনার ডাটা বেসে পার্মানেন্ট ভাবে নিযুক্ত হন।  
  • একজন ফিনান্সিয়াল এডভাইসরের লাইসেন্স থাকা বাঞ্চনীয়। নতুবা আপনি এডভাইসর হিসেবে গণ্য হবেন না এবং কোনো কোম্পানি বা ক্লায়েন্ট আপনাকে প্রাধান্য দেবেন না।  এছাড়াও মাথায় রাখতে হবে আপনার যেন errors and omission insurance (E&O) অব্যশই থাকে। 

  6. সর্বোশেষ কিভাবে ও কোথা থেকে শুরু করবেন ?


শুরুতেই বড় বড় কোম্পানির সাথে যুক্ত না হয়ে কোনো ছোট খাটো কোম্পানিতে ফি বেস্ড বা ফি ওনলি শর্তে কাজে নিযুক্ত হতে পারেন।  এতে দুটি সুবিধা

১. আপনার উর্ধে যেসব সিনিয়ররা থাকবেন তারা প্রতি নিয়ত আপনাকে কাজটি ভালোভাবে শিখতে সাহায্য করবেন এবং ২. এতে শুরুতেই টার্গেটের চাপ অতো বেশি থাকবে না। 

আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের কেমন লাগল, নিচে কমেন্ট করে অব্যশই জানান। ও বিভিন্ন চাকরি সন্ক্রান্ত খবর পেতে আমাদের এপ্প টি আজই ডাউনলোড করুন।