টেলিমার্কেটিং জব(telemarketing job) কি ও এতে কিভাবে উন্নতি লাভ করবেন ?

telemarketing in Bengali

শুরুর দিকে টেলি মার্কেটিং telemarketing সত্যি একটি কঠিন জব।  বিশেষত যাদের এই লাইনে আগে কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

  প্রোস্পেক্ট  কিভাবে ব্যবহার করবেন, তিনি রেগে যাবেন কিনা, তার আপনার প্রস্তাব বা প্রপোসাল পছন্দ হবে কিনা, এইসব নানান চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে।  


এছাড়াও টেলিমার্কেটিং জবে বাচনভঙ্গী বা কমিউনিকেশন স্কিল ভালো থাকতে হয়। তথাপি কথা বলার সময় আপনি ঠিক ভাবে কাস্টমারকে ব্যাপারটি বোঝাতে পারছেন কিনা, সে যদি পাল্টা কোনো প্রশ্ন করে তবে তার সঠিক ভাবে উত্তর দিতে পারবেন কিনা ইত্যাদি চিন্তা হামেশাই মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। 


চিন্তা করবেন না।  যাতে এইসব জিনিস গুলি আপনাকে জ্বালাতন করতে না পারে তাই আজ আমরা এমন কিছু টিপস শেয়ার করবো যা আপনাকে আপনার টেলিমার্কেটিং জবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 


টেলিমার্কেটিং telemarketing কি?


আলোচনা শুরু করার আগে আসুন জেনে নেই কোন ধরণের চাকরি কে টেলিমার্কেটিং জব telemarketing job বলা হয়ে থাকে।  

আমরা অনেকেই জানি মার্কেটিং এর নানান ভাগ ও পন্থা আছে। ডিজিটাল মার্কেটিং (digital marketing), ফিজিক্যাল মার্কেটিং (physical marketing)। 

তেমনি টেলিমার্কেটিং হলো এমন একটি পন্থা যাতে ফোনের মাধ্যমে অথবা সামনাসামনি বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাইয়ার বা কাস্টমার কে জিনিসটি কিনতে প্রভাবিত করা।

এছাড়াও টেলিমার্কেটিং এ আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা সেলস পিচ’ও বলা যেতে পারে।  যেমন টা হয় যখন কাস্টমার কেয়ার বা কোনো ব্যাংক থেকে আপনাদের কল করে। আসা রাখি এই উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা স্পষ্ট ভাবে বোঝানো গেলো। 

telemarketing
source


টেলিমার্কেটিং কয়প্রকার ও কি কি?

কাজ হিসেবে টেলিমার্কেটিং দু ভাগে বিভক্ত। ১. আউটবাউন্ড ও ২. ইনবাউন্ড 


আউটবাউন্ড টেলিমার্কেটিং (outbound telemarketing):

এইধরণের টেলিমার্কেটিং’এ  সরাসরি গ্রাহককে লক্ষ্য করা যেতে পারে; উদাহরণস্বরূপ, কোনো বাড়ি মেরামত ব্যবসা গ্রাহকদের সন্ধানের জন্য লোককে কল করতে পারে ও তাদের ব্যবসাটি সেই লোকটিকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে সেই বিষয়ে বোঝাতে পারে।

মূলত বলা হয় এতে প্রকৃত বিক্রয় প্রক্রিয়া জড়িত হওয়ায় প্রতিনিধিত্বকারীদের সাধারণত আরও প্রশিক্ষণ এবং পণ্য জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।


ইনবাউন্ড টেলিমার্কেটিং (inbound telemarketing): 

এটি আগত বা ইনবাউন্ড টেলিফোন কলগুলি পরিচালনা করে।  সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপন, সরাসরি মেল বা ক্যাটালগ দ্বারা উৎপন্ন এবং বিসতৃত পণ্যের অর্ডার গ্রহণ করা এই জাতীয় টেলি মার্কেটিং প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত।

মূলত ইনবাউন্ড টেলিমার্কেটিংয়ে inbound marketing কাজ করা প্রতিনিধিদের সাধারণত বহির্মুখী বা আউটবাউন্ড প্রতিনিধিদের মতো ততটা  প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

টেলিমার্কেটিং জবের সুবিধা ও অসুবিধা 


সুবিধা : 

সরাসরি গ্রাহকদের সাথে কথা বলার সুযোগ:

অন্যান্য ব্যবসার তুলনায় এতে সরাসরি কাস্টমারকে প্রভাবিত করা যেতে পারে।  এতে করে জিনিসের বিক্রয় ভালো ভাবে হয়।  কারণ, কাস্টমারের মনে কোনো সন্দেহ বা প্রশ্ন থাকলে তা সরাসরি সমাধান করা যায় ও তৎক্ষণাৎ তাকে জিনিসটি কেনার জন্য প্রভাবিত করা যায়। 


ছোটোখাটো ব্যবসার জন্য খুব উপকারী:

সাধারণত ছোট ব্যবসায় কম পুঁজির কারণে বড়ো  বড়ো মার্কেটিংয়ে খরচ করা সম্ভব হয় না।  যাদের জন্য টেলিমার্কেটং একটি সহজ ও সাশ্রয়পূর্ণ পন্থা। 


কাস্টমার সার্ভিসের সুবিধা:

telemarketing in Bengali
source

কোনো ব্যবসার ভীত হলো বিশ্বাস। কাস্টমারদের প্রোডাকটির ওপর বিশ্বাস’ই পারে ব্যবসাটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে।  টেলিমার্কেটিং এমনি একটি সরাসরি বিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। 


কম খরচ:

আগেও যেমন বললাম মার্কেটিং এর ওপর অনেক খরচ হয়।  তাই টেলিমার্কেটিং হলো সবচেয়ে সুবিধাজনক পন্থা। যেহেতু বেশিরভাগ সময় একটি ব্যবসা একটি নির্দিষ্ট মার্কেটকে টার্গেট করে তৈরী হয়, তাই শুধুমাত্র সেইসব মানুষগুলোর সাথে টেলিমার্কেটিং এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা খুবই সহজ ও সস্তা। 


নমনীয়তা: 

এটি সরাসরি মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে নমনীয় রূপ। গ্রাহকরা কী চায় বা কোন জিনিসটি তাদের পক্ষে উপকারী  সেইসব জানতে  এবং বুঝতে সহায়তা করে এবং তাদেরকে  কিনতে প্রস্তুত করে ।

গ্রাহকরা কী খুঁজছেন, কোন পণ্য বা পরিষেবা তাদের মতে ভালো, কোন ব্র্যান্ড-এর প্রতি তাদের আগ্রহ বেশি  ইত্যাদির বিষয়টি জেনে টেলি মার্কেটিংয়ের সুবিধা নিয়ে জরিপ পরিচালনা করা বা একটি ডাটাবেস তৈরী করা যেতে পারে। 

প্রতিক্রিয়া পরিমাপ:

ব্যবসার মধ্যে সব ধরণের মার্কেটিং কে বিশেষ ভাবে নিরীক্ষণের প্রয়োজন পরে।  এতে ভালো করে বোঝা যায় কোন জাতীয় এডভার্টাইসমেন্ট মানুষকে বেশি আকৃষ্ঠ করতে সক্ষম।  তাহলে ভবিষ্যতে সেই ধরণের বিজ্ঞাপন বেশি করে তৈরী করা সম্ভব।  টেলিমার্কেটিং এই ধরণের নিরিক্ষনে সাহায্য করে। 

অসুবিধা :

কোনো বিষয়ে সুবিধার সাথে সাথে অসুবিধাও থাকে, এক্ষেত্রে অসুবিধাগুলি যেমন ,


১. ক্রমবর্ধমান সংখ্যক লোক টেলি মার্কেটিংয়ের প্রতি বিরূপ হয়ে উঠেছে।

২. গ্রাহকের সাথে কোনও ভিজ্যুয়াল যোগাযোগ সম্ভব নয়।

৩. বেশির ভাগ  লোক অপ্রয়োজনীয় কলার, বিশেষত টেলিমার্কেটকারীদের চেনার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

৪. বেআইনী বা টেলিমার্কেটকারীদের নাম করে ভুয়ো কল নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

৫. টেলিমার্কেট করার জন্য যদি কোনও বাইরের ফার্মকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া  হয়, তবে তারা কর্মচারী না হওয়ায় প্রক্রিয়াটিতে কম নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

৬. একটি টেলিফোনে কথোপকথনের খুব স্বল্প স্মৃতি থাকে।

৭. পণ্যগুলির প্রাক-ক্রয় পরিদর্শন সম্ভব নয়।

৮. এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে, বিশেষত যদি টেলি-বিপণন কোনও বাইরের ফার্মে আউটসোর্স করা হয়।

এবার আসুন আজকের আসল টপিকটি সমন্ধে আলোচনা করা যাক। 


  কিভাবে টেলিমার্কেটিং জবে উন্নতি করা যায়   :

টেলিমারকেটারের মতো শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকুন: 

 কার্যকর টেলিমার্কেটররা কাস্টমারদের সাথে কথা বলার সময়  স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং প্রাকৃতিক ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করে। অনেকেই  স্ক্রিপ্টযুক্ত কলগুলিতে স্বচ্ছন্দ নন ।

“আপনি আজ কেমন আছেন?” “আজকের দিনটি আপনার শুভ হোক ” এইধরণের লাইনগুলির মতো আপনি স্টক ইন্ট্রোগুলি যত বেশি ব্যবহার করবেন, তত বেশি কাস্টমাররা আপনাকে প্রথম থেকেই একটি সাধারণ টেলিমার্কিটার হিসাবে বেছে নেবেনা না ও আপনার সাথে বন্ধুর মতো ব্যবহার করবেন।

সুতরাং, আরও আসল আগ্রহী এবং আকর্ষণীয় শোনার জন্য আপনার প্রাথমিক পদ্ধতিকে নরম করার চেষ্টা করুন এবং কথোপকথনের মধ্যে একটি সাবলীল  প্রবাহ অন্যানের চেষ্টা করুন। 

প্রতিদিন নির্দিষ্ট  সংখ্যক কল করুন: 

এটা সবাই জানে যে  সম্ভাবনা কখনো  নিজে হেটে আপনার  দ্বারে এসে ধরা দেবে না।  তেমনি কল না করলে কোনো কাস্টমারই আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারবে না ফলে কোনো ধরণের ব্যবসায়ী চালানো সম্ভব নয়। 

 সুতরাং রোজ নিয়ম মেনে প্রস্পেক্টকে কল করুন।  অন্য কোনো কাজের দ্বারা এই রুটিনে যেন ব্যাঘাত না ঘটে। ।

বি টু  বি টেলিমার্কেটের (B2B telemarketing) জন্য  একটি ভাল নিয়ম হল 7-ঘন্টায়  দিনে 100 কল কল করা।  তবে এটি মনে করবেন না যে  যে প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আপনার ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী কাস্টমারকে কিভাবে ও কতগুলি কল করতে হবে তা নির্ধারণ করুন ।  


কাস্টমারদের তাদের নাম ধরে সম্বোধন করুন :

কাউকে কল করার আগে ভালো করে জেনে নিন তার নামের আসল উচ্চারণ।  অনেক সময় কাস্টমারকে কল করে তার নাম ভুল উচ্চারণ করলে স্বাভাবিক ভাবেই তার মন খারাপ হতে পারে। ফলে আপনার কথা শুনতে সে রাজি নাও হতে পারে।  কোথায় বলে প্রথম ছাপ’ই মানুষের মনে দীর্ঘ ছাপ ফেলে। 


নিজের ব্যবহারে কাস্টমারের মন জয় করুন :  

সবসময় চেষ্টা করুন নিজের ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমারকে একটি পজিটিভ আবহ দিতে সে যতই আপনি নিরূত্সাহ হন না কেন। কারণ কাস্টমার আপনার স্বরে নিরুৎসাহের্ সুর পেলে সে নিজেও আপনার ব্যবসার প্রতি উৎসাহ হারাতে পারে এবং পুরো কথা না শুনেই ফোন রেখে দিতে পারে। 

নিয়মিত ভাবে নোটস সংগ্রহ করুন :

কাস্টমার কোন ধরণের প্রশ্ন করতে পারে বা কি ধরণের প্রশ্ন তাদের মনে তৈরী হয় সেগুলির নোটস তৈরী করুন।  ফলে পরের বার এইসব প্রশ্ন করলে আপনি তার তৎক্ষণাৎ উত্তর দিতে পারেন এবং তার মনের সংশয় দূর করতে পারেন। 


কল করার আগে প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারাবাহিক ভাবে রিসার্চ করুন :

একজন সুদক্ষ টেলিমার্কেটরার কাউকে কল করার আগে যে বিষয়ে কল করতে চলেছে তা নিয়ে নিখুঁত ভাবে গবেষণা করে। সেই বিষয়টির সুবিধা ও অসুবিধা , কিভাবে তা কাস্টমারকে সাহায্য করতে পারে , কেনই বা কাস্টমারকে প্রোডাকটি কিনতে বলবেন সেগুলো আগে থেকে জেনে নিন।  ফলে পরে অপ্রস্তুত হতে হবে না। 


স্ক্রিপ্টের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মনে রাখুন :

আপনাকে যে স্ক্রিপ্ট দেওয়া হবে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলি আন্ডারলাইন করুন এবং ভালো ভাবে তা মুখুস্থ করুন।  তাতে যখন কাস্টমারকে বোঝাবেন তখন যেন কোনো পয়েন্ট ভুলে না যান। 


প্রচুর অভ্যাস করুন :

সর্বোপরি যে বিষয়টি বলবো তা হলো নিয়মিত স্ক্রিপ্ট ধরে আয়নার সামনে নিজের লাইনগুলি অভ্যাস করুন।  কিভাবে বলবেন ,বলার সময় গলার স্বর কেমন হবে সেগুলি প্র্যাক্টিস করুন।  এবং উচ্চারণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন। 

আসা করি এইসব নিয়মগুলি মানলে খুব তাড়াতাড়ি একজন সুদক্ষ টেলিমার্কেটার হিসেবে বসের কাছে নিজেকে প্রমাণিত করতে পারবেন। 


আজকের বিষয়টি আপনাদের কেমন লাগলো অব্যশই আমাদের কমেন্ট করে জানান।  এবং চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন খোবরাখরব সোঁৱৰ আগে বাংলায় পড়তে মিন্টলিকে ফলো করুন।