ভারতীয় এইচআর (HR) পলিসি সম্পর্কে যে বিষয় গুলি জানা আব্যশিক।

indian hr policy in bengali

আপনি কি কোন ভারতীয় কোম্পানি, ছোট কেন্দ্র  বা স্টার্ট আপের সাথে জরিত? তাহলে আজকের এই আর্টিক্যালটি আপনাদের কাছে উপযুক্ত সাব্যস্ত হতে পারে।  

যে কোনো কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান ‘ই  হোক না কেন সবাইকেই ভারতীয় কিছু আইন মেনে চলতে হয়। এইচ. আর পলিসি হলো এমন’ই একটি আইন যা ছোট বড় যেকোনো সংস্থা মানতে বাধ্য। 

আজকের বিষয় 

১. এইচ.আর কি ও এর কাজ

২.  কেন এই পলিসি মানতে বাধ্য  

৩. ভারতীয় নিয়মানুযায়ী এইচ.আর পলিসির বিস্তারিত বিবরণ 

১. এইচ.আর (HR) কি ও এর কাজ

হিউম্যান রিসোর্স ( সংক্ষেপে এইচ আর ) হলো এমন একটি শাখা যা কোম্পানীর কর্মরত এমপ্লয়িদের সুবিধার্ধে তৈরী করা হয়।  এইচ আর পলিসি শুদু মাত্র এমপ্লয়ি ছাড়াও  অন্যান্য বিষয় যেমন কোম্পানির পরিবেশ ও কালচার , কর্মীদের মধ্যে সৎ ভাব , কর্মীদের নানান সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি মাথায় রেখে রচিত। 

একজন এইচ আর ম্যানেজার এর কাজ হলো কোনো কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে তাকে কোম্পানির পরিবেশ এর সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা, 

একটি সুগঠিত এইচ.আর পলিসিতে কি কি যুক্ত করা অতি আব্যিশিক তা আমরা কিছুক্ষন পর জানবো।

২.  কেন এই পলিসি মানতে বাধ্য 

সবকিছুই কোনো না কোনো নিয়ম মেনে চলে। এক্ষেত্রে একটি কম্পানী, যার ওপর দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সেখানকার কর্মীদের’ও জীবন নির্ভর করছে সেক্ষেত্রে কোম্পানী ভারতীয় নিয়মাবলী মানতে সচেষ্ট। 

সম্ভবত যাতে সব কোম্পানী একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে তাই সরকার কিছু নির্দিষ্ট আইন পেশ করেছে এবং প্রতিটি কোম্পানীর এইচ আর সেই নিয়ম মাফিক তাদের পরিকাঠামো তৈরি করে থাকেন। 

৩. ভারতীয় নিয়মানুযায়ী এইচ.আর (HR) পলিসির বিস্তারিত বিবরণ 

এবার আসুন জেনে নেই সেই নিয়ম গুলি যা কোম্পানীর রুলবুকে থাকা ভীষণ আব্যিশিক। এতে যেমন সরকারি নিয়ম’ও মানা হবে তেমনি কাজের জায়গার সম্প্রীতি’ও বজায় থাকবে। 

৩.১. কতো ঘন্টা কাজ করতে হবে 

সর্বপ্রথম যে বিষয়টি আসে তা হলো একজন এমপ্লয়ী কে কতো ঘন্টা খাটানো সম্ভব। 

কোম্পানির রুলবুকে পরিষ্কার করে এইসব শর্ত যেমন কত ঘন্টা কাজ করতে হবে, কদিন কাজ করতে হবে, বাড়তি কাজের নিয়ম, ওভার টাইম করালে তার তথ্য সবই পলিসি তে উল্লেখ থাকতে হবে। 

এক্ষেত্রে যেন কোম্পানীর কাজের সময় ভারতীয় লেবার ল (the labor law) মেনে নির্ধারিত হয়, যেখানে সঠিক একটি সময় কর্মচারীদের কাজের জন্য নির্ধারিত করে দেওয়া আছে। 

৩.২. ছুটি বা leave পলিসি 

 সারা বছরের বিভিন্ন ছুটি, মাতৃত্ব কালীন ছুটি, জাতীয় ছুটির তালিকা, অসুস্থতার কারণে ছুটি ইত্যাদি গুলীকে মাথায় রেখে কোম্পানীর ছুটির খসড়া পেশ করতে হবে।

এবং এইসব ছুটি গুলিতে স্যালারির একটি অংশ কাটা হবে কিনা, কাটলে কতটা কাটা হবে সবই উল্লেখ থাকবে। 

৩.৩. কাজের পরিকাঠামো বৃদ্ধি ও প্রশংসা প্রদান

প্রতিটি এমপ্লয়ী কে তাদের নির্দিষ্ট কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং তাকে কাজের প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলতে হবে।

কোম্পানী তাকে সব রকম পরিষেবা প্রদানে সচেষ্ট হবে। যেমন কাজের মান উন্নতির জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং , ওয়ার্কশপ, কাউন্সেলিং ইত্যাদি সময় সময় করাতে হবে। 

এছাড়াও বেস্ট এমপ্লয়ী, বিভিন্ন কাজ সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত করতে হবে তাকে কাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার জন্য। 

৩.৪ আচরণ বিধি 

কোম্পানিও যেমন তার নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানতে বাধ্য। তেমনই কিছু নিয়ম এমপ্লয়ী দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। 

তার মধ্যে একটি হলো “আচরণ বিধি”

কোম্পানী তে কাজ করতে গেলে এইসব আচরণ বিধি মেনে চলতে হবে । সবার সাথে সদ্ব্যবহার, সবাইকে একভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া, কোনোরকম সমস্যার সবাই মিলে সমাধান করা ইত্যাদি নিয়মাবলী রুলবুকে উল্লেখ থাকবে।

৩.৫. অভিযোগের প্রতিকার 

কোনো এমপ্লয়ী যদি কাজের সময় কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হয়, তবে তার পূর্ণ অধিকার থাকবে ম্যানেজমেন্ট কে তা জানানো। এবং ম্যানেজমেন্ট সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করবে । 

যেকোনো ধরণের আক্রোশ, যৌন হয়রানি, ইত্যাদির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। 

৩.৬ সামাজিক সম্পর্ক

এমপ্লয়ীদের আচরণ বিধির সাথে সাথে আরো একটি পলিসি যুক্ত আছে তা হলো এমপ্লয়ীদের কর্মক্ষেত্রে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন।

ওয়ার্কিং আওয়ার্স এর মধ্যে (working hours) বা ওয়ার্কিং আওয়ার্সের পরে অন্য কোনো সহকর্মীকে কোম্পানির বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা, তাকে নানান ভাবে কাজের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রলোভন বা অন্য যেকোনো রকম আপত্তিজনক কাজ করা কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির পর্যায়ে পরবে। 

৩.৭. উপস্থিতি ও সমায়ানুবার্তিতা 

ছুটি বা লিভ (leave) পলিসির সাথে সাথে সঠিক সময়ে কাজে যোগদান দেওয়া, কাজের সময় কোনোরকম দ্বন্দ্ব, ড্রাগ বা মাদক দ্রব্য সেবন ইত্যাদি করা থেকে এমপ্লয়ী দের বিরত থাকতে হবে। 

৩.৮. কোম্পানির বৌদ্ধিক সম্পত্তির সুরক্ষা 

কাজ চলাকালীন কোম্পানি যে জিনিসগুলি একজন এমপ্লিকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে থাকে অথবা যে যে জিনিসগুলি শুধুমাত্র ওখানকার কর্মচারীরাই ব্যবহার করতে পারে বা কোম্পানির কোনো নিজস্ব তথ্য বাইরে প্রকাশ করা যাবে না ।

অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এই জন্য সাধারণত কর্মচারীদের কাজে যোগদান দেবার সময় একটি non disclosure agreement এ স্বাক্ষর করতে হয়। 

৩.৯. সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য 

Occupational safety and health act  অনুযায়ী, কোম্পানীর কোনো জিনিসের ক্ষতি হলে কর্মচারীকে তৎক্ষণাৎ খবর দিতে হবে। 

৩.১০. পরীক্ষণ

কোম্পানিতে যোগ দেবার সময় সঠিক ভাবে উল্লেখ থাকবে কর্মচারিটি ক’দিনের জন্য পরীক্ষণ পর্যায়ে থাকবে।

অর্থাৎ এই সময়ে কোম্পানি তার কাজের ধরন ও নিয়মানুবর্তিতা দেখবে। এর পর কোম্পানী  তাকে কাজে স্থায়ী ভাবে রাখবে কিনা তা কোম্পানির কর্তাদের বিচার্য । 

এই ছিল নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী যা একটি কোম্পানির পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা অতি আব্যিশিক। এছাড়াও কিছু আলাদা বিষয় আছে যা শুদু মাত্র সেই কোম্পানি তার প্রয়োজন মতো পরিবর্তন করতে পারবে। 

আজকের আর্টিক্যালটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই আমাদের কমেন্টে করে পাঠান ও নতুন চাকরী সংক্রান্ত খবরাখবর সবার আগে পেতে মিন্টলি নিউজ লেটার কে সাবস্ক্রাইব করুন।