কোন কোন ভুলের জন্য সেলস ক্যারিয়ারে আপনি পিছিয়ে পরছেন? 


আপনি কি সেলস লাইনের সাথে যুক্ত? অনেক চেষ্ঠা করেও কেরিয়ারে এগোতে পারছেন না? 


তাহলে আজকের প্রতিবেদনটি আপনার জন্যই।


দুনিয়ার সর্বোচ্চ চাহিদাভুক্ত চাকরী গুলির মধ্যে সেলস অন্যতম। কখনো ভেবে দেখেছেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধিক যে ক্ষেত্র দায়ী তা হলো ইন্ডাস্ট্রি। আর এইসব ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি নির্ভর করে কোম্পানির সেলস পার্সনদের ওপর। 


বিখ্যাত কিছু সেলস পার্সনদের কথায়, আমরা প্রত্যেকে একেকজন সেলস ম্যান যারা অনবরত কিছু না কিছু সেল করার তাগিদে থাকি। 


তাই এই ক্যারিয়ারে চাহিদা যেমন অপরিসীম তেমনি প্রতিটি পদক্ষেপ খুবই জটিল।

 
আজ আমরা এমনই কিছু গুলাবলীর কথা বলবো হয়ত যেগুলো না থাকার কারনে আপনি এই লাইনে এগোতে পারছেন না।


আজকের বিষয়

 1. সেলসের জন্য সবচেয়ে বেশি কোন স্কিলটি প্রয়োজন?

2. কোম্পানির সেলস পরিবেশকে কিভাবে নিজের অনুকূলে রাখবেন?

3. নিজেকে সবসময় সেলসের উপযুক্ত করে তুলবেন কিভাবে?

4. সর্বোপরি সেলসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছতে এই জিনিসগুলি অব্যশই মেনে চলুন


1. সেলসের জন্য সবচেয়ে বেশি কোন স্কিলটি প্রয়োজন?


যদি প্রশ্ন করা হয় সেলস কাকে বলে? উত্তর আমাদের সবারই জানা। কোনো প্রোডাক্ট কাস্টমারের কাছে বেচা কে সেলস বলে। 


ব্যাপারটা কিন্তু এতোটাও সহজ নয়। আমরা যে প্রোডাক্ট টি বিক্রি করতে চাইছি সেটা যে সবসময় কাস্টমারের পছন্দসই হবে তার কোনো মানে নেই। 


এখানেই আসে একজন দক্ষ সেলসম্যানের কাজ, কিভাবে কাস্টোমারকে সম্বহিত করে প্রোডাকটি কেনার জন্য রাজি করানো যায়। 


বহু যুগ থেকে এই বিষয়ের ওপর গবেষণা চলছে। তাতে যে তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে, প্রোডাক্ট দেখানোর সময় সেলসম্যান যদি এমন কিছু সাইকোলজিক্যাল ট্রিগার ব্যবহার করেন তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই কাস্টমার্কে বিনা বাধায় অতি সহজে প্রোডাকটি কেনার জন্য বাধ্য করা যায়। 


একজন দক্ষ সেলসম্যান হতে চাইলে আপনার সর্বপ্রথম কাজটিই হবে সেইসব সাইকোলজিকাল ট্রিগার সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করা যা প্রতি পদক্ষেপে আপনাকে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করবে। 

2. কোম্পানির সেলস পরিবেশকে কিভাবে নিজের অনুকূলে রাখবেন?


ভালো সেলস জবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার কোম্পানি। একটি ভালো কাজের পরিবেশ, টিমের মধ্যে ভালো ঐক্যতা, নতুন কিছু শেখার মনোভাব সবই সেলসম্যানের কাজে প্রভাব ফেলে। 


তাই চেষ্ঠা করুন কাজের জায়গার লোকেদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে, কোন খারাপ পরিস্থিতিকে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সমাধান করতে। 
নিজে যেমন সেলসের বিভিন্ন টিপস বা টোটকার জ্ঞান রাখুন তেমনি তা আপনার টিমের সাথেও ভাগ করে নিন। দেখুন সে ক্ষেত্রে তাদের কি মতামত। 


এক্ষেত্রে বলে রাখি সেলস এমনি একটি প্রফেশন যেখানে সততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি গুন। সর্বদা নিজের টিম এবং কাস্টোমারদের প্রতি সৎ মনোভাব পোষণ করুন। 


3. নিজেকে সবসময় সেলসের উপযুক্ত করে তুলবেন কিভাবে?

career in sales


এতোক্ষণ ধরে বলে আসছি সেলসে নিজেকে সর্বদা এগিয়ে রাখুন।

কিন্তু কিভাবে? 
আসুন এখন তা জেনে নেওয়া যাক।


প্রথমেই বলে রাখি, সেলস হলো এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে অনবরত নিজেকে আপডেট করতে হয়। 


এখন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় সেলস শুধুমাত্র অফলাইন নয় অনলাইনেও করা হচ্ছে। 
আর অনলাইন সেলস বলতে আসে ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিক্রির ধারণা। 
যেকোনো ধরণের সেলসেই কপির ভূমিকা অপরিসীম। 


এখন প্রশ্ন হলো এই কপি জিনিসটি কি?

copywriting in sales


আপনারা অনেকেই রাস্তাঘাটে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন। সেইসব বিজ্ঞপ্তিতে যে লেখা গুলি থাকে তাকে সেলস কপি বলে। কোম্পানি এই সেলস কপি লিখতে প্রচুর টাকা খরচ করে। শুনলে অবাক হবেন এমন অনেক কপি রাইটার আছেন যারা এই কপি লিখে দেবার জন্য বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। 


ইতিহাসের পাতা উল্টালে এমন অনেক উদাহরণ পাবেন।

কিন্তু এই লেখা গুলি কেন এতো দামি?


একজন দক্ষ কপি রাইটারের লেখাই পারে প্রোডাক্ট টিকে ভালো ভাবে সেল করতে। বিখ্যাত কপিরাইটাররা নির্দিষ্ট কিছু সাইকোলজিকাল ট্রিগার ব্যবহার করেন তাদের লেখনী শৈলীতে যার ফলস্বরূপ কোম্পানী তার প্রোডাকটি বিক্রি করতে সক্ষম হয়। 
তাই একজন সেলস পার্সনকে দক্ষ কপিরাইটর না হতে পারলেও লেখালেখি তে আগ্রহ থাকা অতি আব্যিশিক। 


দ্বিতীয়ত, সবসময় আপনার কাস্টমার্কে বোঝার চেষ্টা করুন। তারা ঠিক কোন ধরণের জিনিসের প্রতি বেশী আগ্রহী, জিনিসটি তাদের সত্যি দরকারে লাগবে কিনা এইসব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিসার্চ করুন। 

4. সর্বোপরি সেলসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছতে এই জিনিসগুলি অব্যশই মেনে চলুন


সেলসে এগোতে চাইলে সর্বপ্রথম নিজের জন্য এমন একজনকে রোল মডেল হিসেবে বাঁচুন এবং তাকে অনবরত অসরণ করুন। 
হতে পারে তিনি আপনার বস বা অফিসের কোনো সিনিয়র ব্যক্তি যে সেলস লাইনে অনেক নাম কামিয়েছেন।অথবা পৃথিবী বিখ্যাত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সেলস পার্সন দেরও অনুসরণ করতে পারেন। তাদের লেখা বই, ব্লগ ইত্যাদি পড়তে পারেন।


এক্ষেত্রে ডেল কার্নেগীর লেখা “how to win friends and influence people” বইটি পড়তে পারেন। বইটিতে খুব সহজে কিভাবে লোকের সাথে সখ্যতা তৈরি করতে হয় সেই বিষয়ে লেখা আছে। 


এছাড়াও এলিস হেইমান এর ব্লগ নিয়মিত ফলো করতে পারেন যিনি সেলসের বিষয়ে অনেক জরুরি তথ্য নিয়মিত শেয়ার করে থাকেন। 


এই পন্থাগুলি অবলম্বন করলে আসা করি আপনিও খুব তাড়াতাড়ি সেলস কেরিয়ারে অনেক দূর এগোতে পারবেন। 

এছাড়াও এই বিষয় সম্পর্কে আপনার কোনো মতামত থাকলে অব্যশই আমাদের কমেন্ট করে জানান ও কেরিয়ার সংক্রান্ত তথ্য বাংলায় পেতে আজই মিন্টলিকে সাবস্ক্রাইব করুন।