Resignation letter কিভাবে লিখবেন? ( উদাহরণ সহ )

how to write resignation letter in bengali

আপনি নতুন ও আরো ভালো চাকরির সন্ধান পেয়েছেন এবং সেদিকেই অগ্রসর হতে চলেছেন ? তাহলে আপনার এই নতুন পদক্ষেপের জন্য মিন্টলি আপনাকে জানাচ্ছে অনেক অভিনন্দন। 

মূলত যে কারনেই হোক না কেন আপনি এখন পদ পরিবর্তন করতে চাইছেন।  এবং কোম্পানির কিছু নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে এখন একটি চিঠি কোম্পানির এইচ.আর কে জমা দিতে হবে।  তাকেই মূলত আমরা রেসিগন্যাশন লেটার (resignation letter ) বা পদত্যাগ পত্র বলে থাকি।

 আজকে আমাদের বিষয়

  •  কিভাবে একটি সুন্দর ও সঠিক পদ্ধতি মেনে রেসিগন্যাশন লেটার লিখতে হয়।
  • রেসিগন্যাশন লেটারের Do’s এবং Don’ts 
  •  পদত্যাগ পত্রের মধ্যে যে বিভাগ গুলি অব্যশই রাখা উচিত ( Formatting tips)
  • রেসিগন্যাশন লেটার লেখার কয়েকটি উদাহরণ  

   কিভাবে একটি সুন্দর ও সঠিক পদ্ধতি মেনে রেসিগন্যাশন লেটার লিখতে হয়।  


সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি 


প্রথমেই বলে রাখা ভালো রেসিগন্যাশন লেটার টি কোনো ছোট গল্প বা খোলা চিঠি নয়।  তাই খামোখা তাকে বেশি বড় করে লেখার দরকার নেই। 

চেষ্টা করুন আপনার পদত্যাগ পত্রটি যেন তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত ও কেবল আসল পয়েন্ট গুলিকে সূচিত করে।  কারণ এইচ আর দের অনেক কাজের মধ্যে থাকতে হয়।  এবং এক্ষেত্রে যেন আপনার চিঠিটি পড়তে তাকে বেশি সময় অপচয় না করতে হয়।  


পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন 

Resignation letter কিভাবে লিখবেন? ( উদাহরণ সহ )
source


আপনি আর সেই কোম্পানির কেউ নন। এমনটি ভেবে রেসিগ্ন্যাশন লেটার এ কোনো অসঙ্গতিপূর্ণ  কথা বা অভিযোগ, অপমান বা সমালোচনা করার দরকার নেই। 

 
শেষ দিনটি  উল্লেখ করুন 


চিঠিতে আপনি কোম্পানিতে আর কতদিন থাকছেন, যাকে নোটিস পিরিয়ড বলা হয় সেটি অবশ্যই উল্লেখ করুন।  


হস্তান্তরী বিষয় স্পষ্ট ভাবে লিখুন 


আপনি চলে যাবার পর কে সেই পদটি গ্রহণ করবে, আপনার কোনো বাকি থেকে থাকা কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা বা আপনার পদত্যাগের আগে কি কি কাজ আপনি সম্পন্ন করবেন সেগুলি পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। 


ত্রূটি হীন চিঠি 


আপনার চিঠি টি এখন একটি অফিসিয়াল ষ্টেটমেন্ট।  তাই চেষ্টা করুন চিঠিতে যেন কোনোপ্রকার বানান বা গ্রামার জাতীয় ভুল না থাকে। চিঠিটি যেন পড়তে অসুবিধা না হয়।  সেজন্য যতটা পারুন সহজ বানান যুক্ত শব্দ প্রয়োগ করার। 


  রেসিগন্যাশন লেটারের Do’s এবং Don’ts   


এবার জেনে নেই  সেইসব ছোট ছোট বিষয় যেগুলি রেসিগন্যাশন লেটার জমা দেবার সময় আমাদের কাজে লাগতে পারে। 


  রেসিগন্যাশন লেটারের Do’s

  1. পদত্যাগ পত্রটি মেইলের সাহায্যে এবং প্রিন্ট করে তাতে নিজের স্বাক্ষর করে জমা দিন। এক্ষেত্রে সুদু মেইল বা শুদু চিঠি না দিয়ে উভয়ই করা ভালো। 
  2. নোটিশ পিরিয়ড সম্পর্কিত যাবতীয় খুঁটিনাটি জেনে নিন 
  3. স্থানান্তরিত করণে সাহায্য করুন। 
  4. আপনার কর্ম ক্ষেত্রটি অর্থাৎ ডেস্ক, চেয়ার ইত্যাদি গুছিয়ে রাখুন যদি কোম্পানি আপনাকে তখুনি  ছেড়ে যাবার অনুমতি দেয়।   

  রেসিগন্যাশন লেটারের Don’ts   

Resignation letter কিভাবে লিখবেন? ( উদাহরণ সহ )
source
  1. আগেও যেমন বলেছি আপনি সেই কোম্পানিটি ছেড়ে দিচ্ছেন বলে অন্য কারো সমালোচনা বা অন্য কোনো এমপ্লয়ীকে উত্তক্ত্য করবেন না।  নিজের প্রফেশনালিসম বজায় রাখুন।
  2. নোটিস পিরিয়ড চলাকালীন নিয়মিত ভাবে কাজে যোগদান দিতে অস্বীকার করবেন না।  
  3. আগেও যেমন বললাম , আপনার নতুন চাকরি বা আগত সুযোগ সুবিধা নিয়ে অহেতুক বড়াই করবেন না। 
  4. অন্য এমপ্লয়ীকেও আপনার সাথে পদত্যাগ করার জন্য  উত্তক্ত্য করবেন না।
  5. ভুলধারণা বা আষাঢ়ে গপ্প ছড়াবেন না। 

   পদত্যাগ পত্রের মধ্যে যে বিভাগ গুলি অব্যশই রাখা উচিত   ( Formatting tips)  


রেসিগ্ন্যাশন লেটার এর ফরম্যাটিং খুবই সাধারণ ও সংক্ষিপ্ত।  একটি গোটা পত্রকে পাঁচটি প্যারায় ভাগ করা যেতে পারে। 


প্রথম প্যারা : নিজের সম্পর্কে পরিচয় দিন 


সর্বপ্রথম প্যারাটিতে নিজের পদ (designation ) ও কোম্পানির নাম উল্লেখ করুন।

আপনার কোম্পানিটি যদি ছোট হয় এবং আপনার এইচ.আর যদি ভালো ভাবেই আপনাকে চেনেন তথাপি এইদুটি জিনিস উল্লেখ করা বাঞ্চনীয়।

 চিঠিটি পাওয়া মাত্র আপনার বস আপনার পদত্যাগের তারিখটি জানতে চাইবেন।  তাই আগে ভাগে সেটিও এই প্যারাতেই উল্লেখ করা ভালো। 


দ্বিত্বীয় প্যারা :সেই কোম্পানি সম্পর্কে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন 


এই কোম্পানিতে থাকা কালীন আপনি কি কি  শিখেছেন , কিভাবে এই কোম্পানি আপনার স্কিলকে উন্নত করতে সহযোগিতা করেছে, এই কোম্পানির কোন কোন জিনিস আপনার ভালো লাগে ইত্যাদি বিষয়গুলি এই প্যারাতে লিখুন।  একটি ভালো পদত্যাগ পত্রতে এইসব বিষয়গুলি উল্লেখ থাকা আবশ্যিক।  


এছাড়াও  অন্য যেখানে জয়েন্ট করতে চলেছেন সেখানকার সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত ভাবে কিছু লিখতে পারেন। 


NOTE
: যদি আপনি আপনার বর্তমান কোম্পানির সমতুল্য বা প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিতে যোগদান দিতে চলেছেন , তবে আমার মতে সেগুলি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। 


তৃতীয় প্যারা : স্থানাতিকরণে সহযোগিতার আশ্বাস  

তৃতীয় প্যারাটিতে, আপনার পরবর্তীতে কে কাজটির জন্য যোগ্য হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকা দরকার।

এক্ষেত্রে যদি পরবর্তী কর্মচারীকে এখনো নির্ধারণ করা না হয়ে থাকে তবে আপনি সেই কাজে সহযোগিতা করবেন এমন আশ্বাস দিন। ” আমি আমার পরবর্তী কর্মচারী বন্ধুকে আমার সব কাজ সম্পর্কিত দ্বায়িত্ব বুঝে নিতে  পূর্ণ সহযোগিতা করবো ” এই লাইনটিও  লিখতে পারেন।  

চতুর্থ প্যারা :  এই কোম্পানিতে থাকা কালীন আপনি কি কাজ করতেন সেই বিষয়ে বিবরণ 


 তৃতীয় প্যারার সাথে সঙ্গতি রেখেই এই প্যারাতে আপনি কি কি কাজ করতেন, কোম্পানিতে থাকা কালীন কোন কোন কাজ  দ্বায়িত্ব আপনার অধীন ছিল এবং কোম্পানি ছেড়ে যাবার সময় আপনার পরবর্তী কর্মচারীকে কিকি কাজ এর দায়িত্ব নিতে হবে সেগুলি বিষয়ে বিস্তারিত লিখুন। 


পঞ্চম প্যারা : ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান

 সর্বশেষ প্যারায় তে কন্ট্যাক্ট ইনফরমেশন ,ইমেল এড্রেস , ফোন নাম্বার ইত্যাদি প্রদান করতে পারেন। 

Resignation letter কিভাবে লিখবেন? ( উদাহরণ সহ )
source


  রেসিগন্যাশন লেটার লেখার কয়েকটি উদাহরণ  

 এবার দেখে নেওয়া যাক একটি পূর্ণ রেসিগ্ন্যাশন লেটার এর উদাহরণ

 Sample ১

মাননীয় (পদবি ) মহাশয় / মহাশয়া,


আপনাকে জানাতে চাই যে আমি ( পদ ত্যাগ তারিখ ) তারিখে অমুক কোম্পানির (আপনার কোম্পানির নাম ) অমুক  পদ (আপনার পদ) থেকে পদত্যাগ করছি।

আপনি বিগত (কত বছর কাজ করেছেন) বছর ধরে আমাকে যে পেশাদার বিকাশের সুযোগ দিয়েছেন তার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ  । আমি কোম্পানিতে থাকাকালীন  আমার কার্যকাল উপভোগ করেছি এবং এ জাতীয় উত্সর্গীকৃত দলের পাশাপাশি আমার কেরিয়ার শুরু করার জন্য নিজেকে ধন্য মনে করছি।

আমি অমুক সংস্থায় অমুক অবস্থান গ্রহণ করেছি। আপিনার কোম্পানিতে  আমার অভিজ্ঞতা পুরস্কৃত হওয়ার পরেও আমি অমুক পেশার বা পদের  প্রতি আমার অনুরাগকে অনুসরণ করতে আগ্রহী।

এই রূপান্তরকালে আমি যদি কোনও সহায়তা করতে পারি তবে দয়া করে আমাকে অবশ্যই জানাবেন । আপনি কোনও প্রতিস্থাপন না পাওয়া পর্যন্ত আমি এই কাজে আপনাকে পূর্ণ  সহায়তা করতে প্রস্তুত।

এই  কোম্পানিতে  কাজ করার সুযোগ করে দেবার  জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানাই এবং  আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করি। 
 আপনি আপনার ইমেল@gmail.com তে  আমাকে ইমেল করতে পারেন।

বিনীত,
আপনার নাম 


Sample ২

  মাননীয় (পদবি ) মহাশয় / মহাশয়া, 


অনুগ্রহ করে অমুক কোম্পানির ( আপনার কোম্পানির নাম) এর অমুক পদ (কোম্পানির পদ) হিসাবে আমার পদ থেকে পদত্যাগের এই চিঠিটি গ্রহণ করুন।  আমার চাকরির শেষ দিনটি হবে অমুক তারিখ (পদত্যাগ তারিখ)। 

গত দু’বছর ধরে আপনার এবং আমার সহকর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে  কাজ করতে পেরে আমি আপ্লুত । বিশেষত, ব্যবসায়টি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি (আপনার পদ )  এর বিভিন্ন দিকগুলি  উপভোগ করেছি। এই ক্ষেত্রে আমার দক্ষতা বিকাশের সুযোগগুলির জন্য আমি খুব কৃতজ্ঞ, এবং আপনার সমস্ত নির্দেশিকা এবং অন্তর্দৃষ্টি জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আপনার সংস্থার অনেক সাফল্য কামনা করছি।

আপনার যদি রূপান্তরে কোনও সহায়তার প্রয়োজন হয় তবে অবশ্যই আমাকে জানান।

বিনীত,
আপনার নাম 


এইছিলো রেসিগ্ন্যাশন লেটার বা পদ ট্যাগ পত্র সম্পর্কিত আজকের আলোচনা।  আজকের আমাদের আর্টিক্যালটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। এবং চাকরি সংক্রান্ত খবরাখবর বাংলায় পেতে মিন্টলিতে নিয়মিত চোখ রাখুন।