সহজে ও বিনামূল্যে কিভাবে মার্কেটিং করা সম্ভব ?

সহজে ও বিনামূল্যে কিভাবে মার্কেটিং করা সম্ভব ?

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশ জুড়ে ছোট ছোট অনেক ব্যবসা বা প্রকল্প চালু হচ্ছে। 

বিশেষত প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ার দরুন বর্তমান সময়ে এমন অনেক স্টার্টআপ মাথাচারা দিয়ে উঠছে ।   


কলেজ ছাত্র থেকে শুরু করে চাকুরীজীবিরাও এখন এই ছোট ব্যবসা বা স্টার্টআপে মজে উঠেছেন। আর হবেই না বা কেন? স্টার্টআপে মানুষ কম মূলধনেও অনেক ভালো ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। 


কিন্তু ছোট বা বড় যেমন ধরনেরই ব্যবসা হোক না কেন, মার্কেটিং এর একটি গুরুত্ব অব্যশই থাকে।

মার্কেটিং ছাড়া কোনো ব্যবসাই দীর্ঘ সময়ের জন্য লাভবান হতে পারে না। 


মার্কেটিং কি ও এর গুরুত্ব আমরা আগের আর্টিক্যালে আলোচনা করেছি।


কিন্তু সমস্যা হল ছোটো খাটো ব্যবসায়ীদের মার্কেটিংয়ের জন্য বাজেট অত্যন্ত কম থাকে।  ফলে যতই তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি অতুলনীয় হোক না কেন বেশি সংখ্যক লোকের কাছে তা পৌঁছে যেতে পারে না। 

 
তাই আজ আমরা এমনই কিছু সহজ ও কম খরচ বা বিনামূল্যে মার্কেটিংয়ের উপায় আলোচনা করতে চলেছি যা আপনার ব্যবসার জন্য লাভবান হতে পারে। 

সোশ্যাল মিডিয়া আপনার চির বন্ধু : 


বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেননা এমন মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না।  অনুমান করা যায় ২০২০ তে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩.০২ বিলিয়ন মানুষ সোশ্যাল একাউন্ট খুলতে চলেছে। 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং
উৎস

সুতরাং আন্দাজ করতেই পারছেন ঘরে বসে বিনামূল্যে সোশ্যাল মিডিয়া আপনার প্রোডাক্টটি বহু মানুষের কাছে পোঁছে দিতে সমর্থ।  


তাই আপনার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে নিজের বন্ধু ভাবুন।  


আগেই আলোচনা করেছি মার্কেটিং দুই প্রকারের-  ডিজিট্যাল ও ফিজিক্যাল। 


সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক , ইন্সটাগ্রাম , টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে ডিজিট্যাল মার্কেটিং করা খুবই সহজ। 


বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার :


খুব সহজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মাল্টিমিডিয়া বা গ্রাফিক্সের ব্যবহার অপরিসীমা।

চেষ্টা করুন সোশ্যাল পোস্টে নতুনত্বের ছোয়া আন্তে।  ফলে খুব সহজেই মানুষের উৎসাহ জিনিসটির প্রতি দ্বিগুন হয়ে যাবে।  এছাড়াও লেখার থেকে  ভিজ্যুয়াল আর্টস বেশি সখ্যক মানুষকে আপ্লুত করে তোলে।   


দর্শক বা ক্রেতাদের সম্বহীত করুন :


আগের দুটি অপশনে যা বললাম তার সাথে এই পয়েন্টি সংযুক্ত। আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করুন বা ভালো গ্রাফিক্স তৈরী করুন তার সবারই  আসল উদেশ্য হলো দর্শকদের আপনার ব্যবসার প্রতি আকৃষ্ট করা।

  তাই যেমন ভাবে হোক আপনার ক্রেতাদের সুনজরে আসার চেষ্টা করুন।  মনে রাখবেন বিশ্বাসই হলো ব্যবসার প্রথম শর্ত।  


আপনার ক্রেতাদের চিনুন :


বলা বাহুল্য, এই পয়েন্টই সবার আগে মাথায় রাখতে হবে।

  সর্বপ্রথম আপনার ব্যবসার বৈশিষ্ঠ অনুযায়ী কারা কারা আপনার ক্রেতা তালিকাভুক্ত সেইসব মানুষদেরকে আগে চিনুন।  তাদের বয়স, ভালো লাগা, স্থান , জীবনশৈলী এইসবই আগে থেকে জানা অত্যন্ত দরকার। 


ভাবছেন মার্কেটিংয়ের সাথে এসবের সম্পর্ক কোথায় ? বড় বড় সেলস পার্সনরা ক্রেতা ব্যক্তিত্ব (buyer persona) আগে বিবেচনা করেন।

ক্রেতা ব্যক্তিত্ব (buyer persona)
উৎস

  কারণ বলা হয় একটি মানুষের ক্রয় সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিত্বের ওপর অনেকটাই নির্ভয় করে।  অর্থাৎ  buyer persona আপনার মার্কেটিংকে বিশাল ভাবে সাহায্য করতে চলেছে। 


সমস্যার সমাধান করুন :


কোনো ব্যবসার আসল উদ্যেশই হলো দৈনন্দিন জীবনের কোনো এক বা একাধিক সমস্যার সমাধান করতে পারা।  অর্থাৎ এক্ষেত্রেও আপনার ব্যবসাটি যেন মানুয়ের কোনো একটি অসুবিধাকে লঘু করতে পারে। 

সব সময় লাভ বা লোকসানের কথা না ভেবে ক্রেতাদের সুযোগ দিন।  ফ্রী, ছাড় , সেল ইত্যাদি ভাবে তাদের বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করুন। এর ফলে  দীর্ঘকালীন ব্যবসায় অনেক উন্নতি করতে পারবেন।  


টেস্টিমনিয়াল সংগ্রহ :


সর্বশেষ ক্রেতা দের বিশ্বাস অর্জন করতে গেলে এবং নতুন জিনিস মানুষের কাছে তুলে ধরতে গেলে টেস্টিমোনিয়ালের জুড়ি মেলা ভার।

  চেষ্টা করুন আপনার প্রোডাকটি ব্যবহার করেছেন এমন কারো কাছ থেকে তার মতামত নেওয়া ও সেগুলি বাকি ক্রেতাদেরকে দেখানো।

যদি আপনার প্রোডাক্ট টি একেবারেই নতুন হয় সেক্ষত্রে কাউকে ফ্রিতে ব্যবহার করতে দিয়ে তার থেকে প্রশংসাপত্র বা টেস্টিমোনিয়াল সংগ্রহ করা যেতে পারে। 


এই ছিলো বিনামূল্যে মার্কেটিং এর কিছু পরামর্শ।  কোন পয়েন্টি আপনার ভালো লেগেছে তা অবশই আমাদের কমেন্ট করে জানান। ও চাকরী সক্রান্ত এমন অনেক খবর বাংলায় পেতে মিন্টলি কে ফলো করুন।