2011 সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতবর্ষের 8.03 শতাংশ ভারতীয় বাংলায় কথা বলে। সংখ্যাটি খুবই কম হলেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী হিন্দির (43.63) পরে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা ভাষার অবস্থান। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে মারাঠি, তেলেগু ও তামিল কে দেখা যায়। 


তাই আজ Mintlyর প্রচেষ্টা হলো ভারতবর্ষের বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষীর মানুষদের জন্য উপযুক্ত কিছু চাকরির সন্ধান দেওয়া । যদিও সব ধরনের চাকরিই সমস্ত ভাষাভাষীর মানুষ করতে পারেন, কিন্তু আজ আমরা এমন কিছু নতুন চাকরির সন্ধান দেব যা
শুধুমাত্র বাঙালি বা বাংলা ভাষায় পারদর্শী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী হবে। 

আজকের বিষয় 

  • বাঙলাভাষীদের জন্য অনুবাদের চাকরী 

  •   বাঙলাভাষীদের জন্য কন্টেট রাইটিং 

  •   বাঙলাভাষীদের জন্য মার্কেটিংয়ের চাকরী 

  • বাঙলাভাষীদের জন্য সেলস এগ্জ়িক্যুটিব্স (sales executive) এর চাকরী 

  • বোনাস টিপ 

ভাষা অনুবাদ (Translation ):

বর্তমান যুগে সমস্ত জিনিসই এখন হাতের মুঠোয়। নতুন ডিজিটাল ইন্ডিয়া এখন সব কিছুকেই আরো বেশি করে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তাই বিভিন্ন কোম্পানিও এখন তাদের প্রডাক্ট সমস্ত মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী অনুবাদকদের খুঁজছে। তাদের সর্বপ্রথম লক্ষ্যই হলো ভারতে বসবাসকারী 11 বেশি ভাষাভাষীর মানুষ যাতে নিজের ভাষায় কোম্পানির প্রোডাক্ট গুলি সম্পর্কে জানতে পারে । এতে শুধুমাত্র কোম্পানির লাভ নয় , ভারতবর্ষের সব প্রান্তের মানুষেরাও সব জিনিসের আস্বাদন সমান ভাবে করতে পারবে।

বাঙালি হয়ে আপনি বিভিন্ন ধরনের ইংরেজি কনটেন্ট কে বাংলায় অনুবাদ করতে পারেন । ইংরেজির ওপর সামান্যতম দক্ষতা এবং বাংলা ভাষার প্রতি অসীম প্রেম যদি হয় আপনার বৈশিষ্ট্য, তবে ট্রানসলেশন হলো আপনার জন্য উপযুক্ত পথ নিজেকে প্রমাণ করার।

আর্টিকেল বা ব্লগ রাইটিং :

ট্রানসলেশন জবের মতোই বাংলায় কনটেন্ট লিখে অর্থ উপাজন নতুন কিছু নয় । লেখার প্রতি অটুট ভালোবাসা এবং বিষয়ের উপর জ্ঞান এই চাকরিটিতে আপনাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

ট্রানসলেশন থেকে ব্লগ / কন্টেন্ট রাইটিং  কতটা আলাদা?

ট্রান্সলেশন এ একটি প্রদত্ত কনটেন্ট এর মানে ঠিক রেখে বাংলায় অনুবাদ করতে হয় । অপরদিকে কনটেন্ট রাইটিং এ আপনাকে প্রদত্ত বিষয়ের ওপর আগে ভালো করে রীসার্চ করে লিখতে হয়।

লোকেশন, বেতন ও বয়স:

লোকেশন :

এই জবে ইন হাউস এবং ফ্রিল্যান্সিং উভয় এরই সুবিধা আছে॥ অনেক কোম্পানি রাইটারদের তাদের ইন হাউস এমপ্লয়ি হিসেবে নিযুক্ত করে থাকে বিভিন্ন লেখালেখি বা অনুবাদের জন্য। অপরদিকে আপনি চাইলে ঘরে বসে আপনার নির্দিষ্ট কম্পানি বা ক্লায়েন্টের জন্য কাজ করতে পারেন যাকে আমরা ফ্রিল্যান্সিং বলে জানি এবং বর্তমান মার্কেট প্লেসে যার দর অনেক।

বেতন :

এই চাকরিতে আপনার কাজের গতির উপর নির্ভর করে আপনার বেতন নির্ধারিত হয় । অর্থাৎ একদিন বা এক সপ্তাহে আপনি কতগুলি আর্টিকেল বা ওয়ার্ড ট্রান্সলেট করতে পারছেন সেই হিসেবে আপনার একটি মাসোহারা নির্ধারিত হয় । কিন্তু যদি আপনি কোন কোম্পানির হয়ে ইন হাউস এমপ্লয়ি হিসেবে নিযুক্ত হন সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক বেতন শুরু হতে পারে 15000 টাকা থেকে।

বয়স :

এই চাকরির জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স সীমা নেই। বাংলা লেখায় পারদর্শী যেকোনো বয়সী পুরুষ বা মহিলা এ কাজের জন্য নির্বাচিত হতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং সম্বন্ধে বাংলায় আরো বিশদে জানতে চোখ রাখুন মিন্টলির পাতায়।

আসুন এখন জেনে নেই বাংলা ভাষায় আবেদনকারীদের জন্য অন্য কি ধরনের চাকরির সুযোগ সুবিধা আছে ।

কন্টেন্ট মার্কেটার :

বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট মার্কেটিং এর জন্য বাংলা ভাষায় দক্ষ মার্কেটারদের নিয়োগ করে থাকে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলা লেখা ও বলায় পারদর্শী হতে হবে , কারণ কম্পানির এমন অনেক ক্লায়েন্ট থাকে যারা বাংলাতে বেশি স্বচ্ছন্দ (যেমন বাংলাদেশিরা)

একজন যোগ্য মার্কেটার হতে গেলে কি কি দক্ষতা লাগে?

বিভিন্ন কোম্পানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। সাধারণত একজন মার্কেটার কে কনটেন্ট মার্কেটিং ছাড়াও নানান ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন এ পারদর্শী হতে হয় । যেমন ফটোশপ, কনটেন্ট রাইটিং, কম্পিউটারের বিশদ জ্ঞান, ছোট ছোট বিষয়ে প্রতি গভীর মনোনিবেশ ও আরো অনেক কিছু।

লোকেশন, বয়স ও বেতন


লোকেশন :

মার্কেটিং জব সাধারণত ফুল টাইম এভেলেবেল হয় । সুতরাং আপনাকে কোম্পানির ইন হাউস এমপ্লয়ি হিসেবে নিযুক্ত হতে হবে।


বয়স :

এই চাকরিতে বয়স এর থেকেও বেশি অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়ন করা হয়। সে দিক থেকে দেখতে গেলে 24 থেকে 35 বছর বয়সি যে কোন পুরুষ বা মহিলা এই কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন।

বেতন:

বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কন্টেন মার্কেটারদের পে স্কেল বিভিন্ন রকম ভাবে নির্ধারিত করে থাকে। যাদের  মধ্যে আবেদনকারীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও তৎপরতা ইত্যাদি গণ্য করা হয় । এছাড়াও এই সব চাকরিতে মাসিক বেতনের পাশপাশি ইন্সেন্টিভ এরও ব্যবস্থা আছে।

বাংলা ভাষীদের জন্য সেলসের চাকরি:

মার্কেটিং এর মতই বাংলা ভাষায় পারদর্শী দের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি সেলস এক্সিকিউটিভ এর দায়িত্ব প্রদান করে থাকে। এই সব চাকরির জন্য একইরকমভাবে ক্যান্ডিডেট কে বাংলা ভাষা লেখা ও বলায় মোহরোথী হতে হয়। ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক পাশে যে কোন পুরুষ বা মহিলা এ কাজে জন্য দরখাস্ত করতে পারেন। বলা বাহুল্য এতে কোনো রকম বয়স সীমা নির্ধারিত নেই এবং অন্যান্য ফিল্ডের যোগ্যতা অনুযায়ী আপনার বেতন আরো বাড়তে পারে। সময়মতো মাইনে , সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ছুটি ও আরো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য বাংলায় কথা বলা আবেদনকারীদের কাছে এটি একটি আকর্ষনীয় সুজোগ হয়ে উঠতে পারে।

বোনাস টিপ

বাংলায় কথা বলা প্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন টেলিকম সেন্টার এ প্রতিনিয়ত ভ্যাকেন্সি বার হয় । যে কোন ফ্রেসারসরা এই ধরনের বি পি ও সেন্টারগুলির জন্য আবেদন করতে পারেন । ফুলটাইম বা পার্ট টাইম দুই রকমেরই সুবিধা এতে আছে।
অতএব দিনের কিছু সময় বার করে গৃহবধূ, স্টুডেন্টরাও এইধরনের চাকরি করতে পারেন।

আজকের প্রতিবেদনটির মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য কিছু উপযুক্ত চাকরির সন্ধান আমরা দিতে পেরেছি। আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে তা নিচে অবশ্যই কমেন্ট করুন এবং ভবিষ্যতে এমন আরও চাকরির খবরা খবর বাঙলায় পেতে মিন্টলির পেজটিকে এখুনি ফলো করুন।

এছাড়া নতুন ভেকেন্সি সম্পর্কে সবার আগে আপডেট পেতে আমাদের job seeker app 

আজই ডাউনলোড করুন।  

 

Language